আদর্শ সমাজ গঠনে উন্মোচন হোক দুনীর্তিবাজদের মুখোশ

0


সফিউল্লাহ আনসারী :  বর্তমানে দেশে ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলছে। স্বাধীনতার এতো বছর পরও আমরা দুর্নীতি হটাতে পারিনি পুরোপুরি। দুর্নীতিমুক্ত আদর্শ সমাজ গড়ার সাথেই বারবার আমাদের থমকে যেতে হচ্ছে কতিপয় অসাধু দুর্নীতি পরায়ন মানুষরূপি দেশের শত্রুদের কারনে। বাঙালী ধমবার জাতী নয়, তাই যখনই সমাজে দুর্নীতি অসংগতি তখনই সরকারের পাশাপাশি সোচ্চার হচ্ছে এদেশের জনগন।


ইদানিং ক্যাসিনো নামক ব্যাধির খোঁজ মিলেছে রাজধানী শহর ঢাকায়। সাথে সাথেই এসব  ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবাজ অসাধু লোকদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হয়েছে শক্তিশালি শুদ্ধি অভিযান। বেড়িয়ে আসছে হাজার কোটি টাকার অবৈধ উৎস। প্রশাসনের নাগের ডগায় বসে ক্লাবের আড়ালে এসব বিদেশী জুয়া যেমন আমাদের অর্থনীতিকে আক্রান্ত করছে তেমনি যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ক্যাসিনো নামক জুয়ার সাথে বাড়ছে মাদকের ভয়াবহতাও। 


বর্তমান সরকার কঠোর হস্তে এসব ধমন করতে গিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল বড় ধরনের দুর্নীতির সন্ধান পাচ্ছে। ক্রমেই বিভিন্ন বিভাগের অসাধু কর্মকতার্দের অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য অবাক করে দিচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের সাথে মিশে গিয়ে স্বার্থান্বেসীরা রাতারাতি অবৈধ পন্থায়, সরকারী বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাত করে শত শত কোটি টাকার মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন ও কোন কোন সূত্রে অন্যান্য দলের নেতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবৈধ অর্থ ভাগ করে খাওয়ার খবর এসেছে পত্রিকার পাতায়। দেশবাসী এদের অপকর্মে হতবাক। সাধারণ মানুষ আজ সমাজে অসহায়ত্ব প্রকাশ পাচ্ছে এসব কোটি কোটি টাকার লুপাটের খবর দেখে।  


গত মাস থেকে শুর“ হওয়া শুদ্ধি অভিযান দেশের সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়েছে সাথে প্রসংশাও। দুনীর্তিবাজদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরাধমুলক কর্মকার্তা ও  কর্মচারীদের বিরদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চলুক কঠোর হস্তে, কেউ যেনো অনিয়ম-দুর্নীতি করে পার না পায় এমন মনোভাব আজ জনগনের মাঝে। ক্ষামতাধর প্রভাবশালী ব্যাক্তি ও প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজদের যোগসাজশে বেপরোয়া দুর্নীতি উন্নয়নের পথে চরম আতংক এবং বাঁধার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। অনিয়ম-দুনীর্তিবাজদের মুখোশ উন্মোচন সময়ের দাবি।


এ অভিযান শুধু ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী নিদিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ থাকলেই হবেনা, দেশে প্রত্যেকটা বিভাগ, সকল খাত থেকে দুর্নীতির ভূত তাড়াতে হবে। সরকারী-আধা সরকারী সংস্থা, বিচার ব্যাবস্থা, এনজিও, পোষাক শিল্প, কর বিভাগ, মন্ত্রনালয়, ব্যাংক-বীমা, বিদ্যুৎ,  শিক্ষা-স্বাস্থ্যখাত, প্রশাসনিক সব সেক্টর, রাজনৈতিক কমিটি বাণিজ্য, উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টিকারী, নানা উপায়ে দখলবাজ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, হঠাৎ বাজার অস্থিতিশীলকারী, ফাইল দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, আমদানি-রফতানি খাত, খাদ্য-ঔষধে ভেজালকারী, মাদক কারবারী, ঘুষখোর-অবৈধ মুনাফাখোর, ধর্ষক, ছিনতাইকারী, বনভুমি-সরকারী সম্পত্তি ও  ফুটপাত দখলদারসহ ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত শুদ্ধি অভিযান অব্যহত রাখতে হবে। 


দুনীর্তি ও অবৈধ কর্মকান্ডের উৎসাহদাতাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। বর্তমানে পেয়াজের বাজার অস্থিতিশীলরাও এই দুনীর্তিবাজদের দোসর। এদেরকেও আইনের আওতায় এনে মূলহোতাদের খুঁজে বের করা হোক।
বর্তমানে ক্যাসিনো ও দুনর্ীতি বিরোধী অভিযানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ পরিশুদ্ধ করতে প্রচেষ্টা চলছে। দুনীর্তিবাজদের ব্যাক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক কাউকে আর ছাড় নয় এমন মনোভাব এ অভিযানকে আরও অর্থবহ করবে। চলমান ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান বর্তমান সরকারের প্রসংশনীয় কাজের মধ্যে অন্যতম। এই অভিযানের ভেতর দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ সহনশীল ও ভালো হবে যা দুর্নীতির ভয়াবহ পরিনাম থেকে মুক্ত করবে। 


দুর্নীতির মাধ্যমে কালো টাকা ও পেশিশক্তির হাত থেকে মুক্তির এ অভিযান চলমান থাকলে জনগণের মঙ্গল হবে বলে সচেতন মহলের বিশ্বাস। দুর্নীতির বিরোদ্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছে আশা করা যায় তা বাংলাদেশকে বিশ্বে দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে সমুন্নত করবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর দুনীর্তি বিরোধী এ শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকুক, সফল হোক, এই প্রত্যাশা আজ সকল জনগনের।         

লেখক,

সফিউল্লাহ আনসারি                                                                                                

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here