চট্টগ্রামে “রূপসা ফাউন্ডেশন” থেকে সাড়ে ৮কোটি টাকা উদ্ধার

10

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম সিইপিজেড মোড় চৌধুরী মার্কেটের ২য় তলায় প্রতারণার অভিযোগে রূপসা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামের একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল। এসময় নগদ সাড়ে ৮ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ৩নটা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। এঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত চৌধুরী মার্কেট ঘেরাও করে ছিলো অর্থ জমাকারী গ্রাহকরা।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো রূপসা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি পোশাকশিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা জমা রাখতো।
অর্থ জমাকারী গার্মেন্টস শ্রমিক রফিক নামের একজন গ্রাহক নাগরিক বার্তা’কে বলেন , তাদের স্বামী-স্ত্রীর ৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জমা আছে। তিনি বলেন, আমাদের বিশ বছরের সঞ্চয় এখানে জমা রেখেছি। এগুলো ছাড়া আমাদের কিছুই নেই। এ টাকা না ফেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাবো।

জোছনা আক্তার নামের একজন গ্রাহক বলেন, আমি একুশ বছর ধরে গার্মেন্টসে চাকরি করি। অধিক লাভ দিবে বলে আমাকে একটা ডিপোজিট করায়। আমার একুশ বছরের জমানো সঞ্চয় ৪ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা এখানে জমা। আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে, দু’মাস পর বিয়ে। এ টাকা না ফেলে আমার মেয়ের বিয়ে দিতে পারবো না।

রূপসা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের এমডি জাকির হোসেন হাওলাদার নাগরিক বার্তাকে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঢাকায় থাকতেন। তিনি ঢাকার কয়েকজন গ্রাহক থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা নিয়েছিলেন। ২ মাস আগে তার মৃত্যু হয়। ঢাকার গ্রাহকরা টাকা না পাওয়ায় তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। এর প্রেক্ষিতে অভিযানটি চালিয়েছে। আমাদের অফিসে নগদ সাড়ে ৮ কোটি টাকা পেয়েছে। কতজন গ্রাহক আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে চার হাজারের বেশি গ্রাহক আছে। গ্রাহকদের কত টাকা জমা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সঠিক বলতে পারবো না। গ্রাহকদের যে পরিমাণ টাকা জমা আছে, সে পরিমাণ আমাদের জমিজমা আছে।

অভিযান প্রসঙ্গে সিএমপির বন্দর জুনের উপ-কমিশনার নুরুল হুদা বলেছেন, এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রায় ৭-৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ঢাকায়। এ ধরনের একটি অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। ডিএমপি ডিবির শক্তিশালী একটি দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এখানে অভিযান চালিয়েছে। এ অভিযানে আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করেছি। তবে, এ প্রতিষ্ঠানটি আমাদের নজদারিতে থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here