রবিবার , ফেব্রুয়ারি ২৩ ২০২০
Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / যেভাবে তৈরি হল পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমা!

যেভাবে তৈরি হল পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমা!

পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির সূচনা ১৯৫০-এর দশকে, ভারতের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রথম দিকের সময়ে। প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলীর একটি কথা বিখ্যাত হয়ে আছে। তিনি ১৯৬৫ সালে বলেছিলেন, ‘ভারত যদি বোমা বানায়, তবে আমরা ঘাস-পাতা খেয়েও, এমনকি ক্ষুধার্ত থেকেও আমাদের নিজস্ব বোমা বানাব।‘

ভারতের কাছে ১৯৭১ সালে পরাজিত হওয়ার পর কর্মসূচিটি আরো অগ্রাধিকার পায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ওই সময় ভারতের পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টার খবরের চেয়ে ভূখণ্ড হারানোর লজ্জা পাকিস্তানি পরমাণু কর্মসূচিতে ত্বরান্বিত করেছিল। তারপর ১৯৭৪ সালের মে মাসে ভারতের ‘স্মাইলিং বুদ্ধা’ কোডনেমে প্রথম প্রথম বোমা পরীক্ষার ঘটনায় উপমহাদেশে পরমাণুকরণের যাত্রা শুরু হয়।

পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, সমৃদ্ধি ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম সংগ্রহ শুরু করে। দেশটিকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন বিজ্ঞানী এ কিউ খান। পাশ্চাত্য থেকে ১৯৭৫ সালে দেশে ফিরে তিনি সেন্টিফিউজ ডিজাইন ও সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাজের সূচনা করেন। পাকিস্তানের কর্মসূচিটিকে সাহায্য করেছিল ইউরোপিয়ান দেশগুলো। তারা মনে করেছিল, বেসামরিক প্রয়োজনে এই পরমাণু প্রয়োজন। কিন্তু সামরিক বিষয়টি প্রকাশ পেলে তারা সরে যায়।

পাকিস্তান ঠিক কখন তার প্রথম পরমাণু বোমা হাতে পেয়েছিল, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর (তিনি জুলফিকার আলী ভুট্টোর মেয়ে) দাবি করেছেন যে তার বাবা তাকে বলেছেন যে ১৯৭৭ সালেই প্রথম বোমাটি প্রস্তুত হয়ে যায়। তবে পাকিস্তান আনবিক জ্বালানি কমিশনের এক সদস্য বলেন, প্রথম বোমাটির নির্মাণ শেষ হয় ১৯৭৮ সালে। আর বোমাটির ‘কোল্ড টেস্ট’ (প্রকৃত বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে) হয় ১৯৮৩ সালে।


বেনজির ভুট্টো পরে দাবি করেন যে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের বোমাটি সংযোজনহীন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। তবে তিন দিনে ভারত ছয়টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে এর তিন সপ্তাহ পরে পাকিস্তানও দ্রুততার সাথে এক দিনে ৫টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ষষ্ট বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটায় তিন দিন পর। প্রথম বোমাটি ছিল সম্ভবত ২৫ থেকে ৩০ কিলোটনের। এটি হয়তো ছিল বুস্টেড ইউরেনিয়াম ডিভাইস। দ্বিতীয়টি সম্ভবত ছিল ১২ কিলোটনের এবং পরের তিনটি ছিল সাব-কিলোটনের ডিভাইস।

ষষ্ট ও শেষ ডিভাইসটি ছিল ১২ কিলোটনের বোমা। এটি ভিন্ন টেস্টিং রেঞ্জে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের পর মার্কিন বিমান বাহিনীর ‘কনস্ট্যান্ট ফোনিক্স’ পরমাণু শনাক্তকরণ বিমান প্লুটোনিয়াম শনাক্ত করেছিল বলে জানা যায়। অনেকে মনে করেন, এটি ছিল আসলে উত্তর কোরিয়ার বোমা। কারণ পাকিস্তান কাজ করছিল ইউরেনিয়াম বোমা নিয়ে এবং উত্তর কোরিয়া (এ কিউ খানের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাকিস্তানের সাথে গবেষণা বিনিময় বা বেচাকেনা করছিল) প্লুটোনিয়াম বোমা নিয়ে কাজ করছিল। উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততা এড়ানোর জন্য অন্য কোথাও সেটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে।

About Mohammad Firoz

Check Also

নাইজেরিয়া সামরিক অভিযানে নিহত ১২০

নাইজেরিয়া ও ফ্রান্সের সেনাদের যৌথ অভিযানে দক্ষিণ পশ্চিম নাইজারে ১২০ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে।এ সময় বোমা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ
সৌদি আরব মক্কা উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত শেখ হাসিনার প্রশংসা করে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির চিঠি যুবলীগ নেত্রী পাপীয়ার আরও অন্ধকার জীবনের সন্ধান বুবলীকে বিয়ে প্রসঙ্গে মুখ খুললেন শাকিব খান বিটিআরসিকে ১০০০ কোটি টাকা দিলো গ্রামীণফোন ইতালীতে ভেনিস বাংলা স্কুলের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন স্পেনে লেগাদ ক্রেসপো কলেজে মাতৃভাষা দিবস পালিত চট্টগ্রামে রফতানি পণ্য চোর চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বেনাপোল পোর্ট থানায় গেলে ভালো ব্যবহার ও চকলেট দেন ওসি মামুন খান রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে একটি প্রাইভেটকার উঠে যাবার ঘটনায় ৭ জন আহত