লকডাউন করার আগে আটকে পড়া মানুষদের পর্যাপ্ত খাবার, পানি এবং অসুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা ভাবতে হবে – জিএম কাদের

1

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ-২০২০।।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, কোভিড-নাইনটিন ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউন করে চীন অসাধারন সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতায় লকডাউন করার আগে আটকে পড়া মানুষদের পর্যাপ্ত খাবার, পানি এবং অসুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা ভাবতে হবে। কারন, অনেক মানুষই দিন আনে দিন খায়। আবার টাকা থাকলেও তো অনেকেই খাবার কিনতে বের হতে পারবে না। তাই মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে হতদরিদ্রদের কথা ভাবতে হবে। অন্যথায় উপকারের চেয়ে অপকার হয়ে যেতে পারে।
জাতির উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আরো বলেন, কোভিড-নাইনটিন এর আতংকে আতংকিত সারাবিশ^। আতংক ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। মানুষ বুঝতে পারছেনা এই ভাইরাস আমাদের কতটা ক্ষতি করবে বা ভবিষ্যত কি হতে পারে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারকে সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে জাতীয় পার্টি। তিনি বলেন যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী আমরা সার্বিক ভাবে সরকারকে সহায়তা করবো। বলেন জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সারাদেশে করোনা ভাইরাস মেবাবেলায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচরনা চলছে। জাতীয় পার্টি সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।
ভিডিও বার্তায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আরো বলেন, রোগটি মারাত্মক ছোঁয়াচে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সাধারন মানুষের প্রতি আহবানও জানিয়েছেন তিনি। বলেন, অনেকেরই সর্দি, জ¦র বা শ^াসকষ্ট হয়, সে অনুযায়ী স্বাভাবিক চিকিৎসা নেয়াই উত্তম। বর্তমান বাস্তবতায় হাসপাতাল গুলোর জরুরী বিভাগে ভীড় করা ঠিক নয়। এতে প্রকৃত করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যহত হবে।
তিনি বলেন, কোভিড নাইনটি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগে মৃত্যুর হার ২ থেকে ৩ ভাগ। ইতোমধ্যে যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তারা বয়োবৃদ্ধ এবং বিভিন্ন রোগে অক্রান্ত। বলেন স্বস্তির বিষয় হচ্ছে ৮ থেকে ১০ বছর বয়সের নিচের শিশুরা কোভিড-নাইনটিনে আক্রান্ত হচ্ছেনা। আবার অধিকাংশ বয়স্করাও চিকিৎসায় সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তাই আতংকিত না হয়ে সচেতন হতেও পরামর্শ দেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ সর্দি, কাঁশি, জ¦র বা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হলে, তাকে অবশ্যই আলাদা ভাবে থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। কারন, পরিক্ষা ছাড়া কেউ জানেনা কে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আবার করোনা আক্রান্ত হলেও সেজন্য সরকারী ভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব কিছু রেডি থাকতে হবে। শ^াসকষ্ট জনিত রোগে অক্সিজেন সহায়তা সহ উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বলেন, চীন থেকে উৎপত্তি হলেও করোনা ভাইরাস এখন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিষেধক আবিস্কার করতে না পারলেও, রোগটি যেন না ছড়ায় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। আবার ব্যক্তিগত ভাবেও সচেতন থাকতে হবে সবাইকে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন অর্গানাইজেশনের কথা উল্লেখ করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, সংস্থাটি পরিক্ষা-নিরিক্ষার উপর বিশেষ জোড় দিয়েছে। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই পরিক্ষা-নিরিক্ষার। তাই পরিক্ষার-নিরিক্ষার উপকরণ দেশে না আসা পর্যন্ত সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, যাতে ভাইরাসটি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে না পড়ে।
তিনি বলেন, কেউ সর্দি, কাঁশি, জ¦র বা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে যেন অস্পৃশ্য ভেবে ঘৃণা না করি, তার চিকিৎসা যেন ব্যহত না হয়। বলেন সবাই যেন মানবিক আচরণ করি আক্রান্ত মানুষদের সাথে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here