মহান স্বাধীনতা দিবস ও আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য

Must read

ভালুকার সিডষ্টোর বাজারে চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল খানের ব্যাপক গণসংযোগ

আরিফ রববানীঃআসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গণতন্ত্রেরমানসকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডকে তরান্নিত করে জনকল্যাণে জনগনের পাশে...

নগরীতে স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচীর উদ্ভোধন করলেন কাউন্সিলর আনার

লিয়াকত,রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহী মহানগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের জনসাধারনের মধ্যে উগ্রপস্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে,নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ড...

সাকিব এখন চাল-ডালের পাইকারি আড়তদার!

সাকিব এখন চাল-ডালের পাইকারি আড়তদার! মাস খানেক পরই আইসিসির নিষেধাজ্ঞামুক্ত হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। এরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারবেন...

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিশ্বনেতারা এই অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন ‘ভার্চুয়ালি’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতিসংঘে...

স্বাধীনতা শব্দটির তাৎপর্য গভীর ও ব্যাপক। স্বাধীনতা হলো স্বাধীন রাষ্ট্রে সার্বভৌম জাতি হিসেবে টিকে থাকার আয়োজন। স্বাধীনতা মানে ইচ্ছার স্বাধীনতা, রাজনীতির স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি। একটি দেশের স্বাধীনতা সেদিনই সার্থক হয় যেদিন দেশের আপামর জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক পরিবেশে, নিজেদের নাগরিক অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ক্ষমতা অর্জন করে।

কবি সুকান্তের ভাষায় বলতে হয়,
“সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়;
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার, তবুও মাথা নোয়াবার নয়।”

দেশের অসংখ্য দেশপ্রেমিক শহীদের আত্মদানে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার মানুষ পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক স্বৈরশাসনের গ্লানি থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিল। লাখ লাখ শহীদের রক্তে রাঙানো আমাদের স্বাধীনতার সূর্য। তাই এ দেশের জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা দিবস সবচাইতে গৌরবময় ও পবিত্রতম দিন। ২৬ মার্চ, আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের রক্ত অক্ষরে লেখা অনন্য এক গৌরবোজ্জ্বল দিন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি, এরপর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে। প্রথমেই বাঙালিদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে, বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে এককভাবে রাষ্ট্রভাষা করা হয়। ফলে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে গর্জে ওঠে বাঙালি, গড়ে তুলে ভাষা আন্দোলন। বাংলার দামাল তরুণদের জীবন দেয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সুবাদে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে ইউনেস্কো।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বাঙালিদের রাজনৈতিক ঐক্য যুক্তফ্রন্ট বিজয় অর্জন করলেও শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে অল্পকালের মধ্যেই ভেঙে দেয় প্রাদেশিক যুক্তফ্রন্ট সরকার। পরবর্তীতে ছয় দফা ও এগার দফা আন্দোলন ক্রমেই গণআন্দোলনে রূপ নেয় ফলে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান পদত্যাগ করলে দায়িত্ব নেয় জেনারেল ইয়াহিয়া খান, তিনি ক্ষমতায় এসেই নির্বাচন দিলেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালিদের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে আলোচনার নামে কালক্ষেপণ শুরু করে।

এতসব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে বললেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।

২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে এবং অপারেশন সার্চলাইটের নামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপরবপৃথিবীর ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ড চালায়। তখন থেকেই ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জন ও অসাম্প্রদায়িক, কল্যাণমুখী, মানবিক, প্রগতিশীল স্বতন্ত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। মানুষের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠা, শোষণ, বৈষম্য, অন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখীসমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। এই দিনটি বাঙালির জীবনে বয়ে আনে একই সঙ্গে আনন্দ-বেদনার অম্ল-মধুর অনুভূতি। একদিকে হারানোর কষ্ট অন্যদিকে প্রাপ্তির আনন্দ। তবে শেষ পর্যন্ত সর্বস্ব হারিয়েও স্বাধীনতা প্রাপ্তির অপার আনন্দই বড় হয়ে ওঠে প্রতিটি বাঙালির কাছে। গৌরবোজ্জ্বল এই দিনটি প্রতিবছর আসে আত্মত্যাগ ও আত্মপরিচয়ের বার্তা নিয়ে। স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য। নব উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে আসে এই দিন। সংকট উত্তরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আশার কথা হলো, আমাদের বর্তমান প্রজন্ম স্বাধীনতার ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী। এই প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার দীক্ষায় দীক্ষিত করতে হবে। এ জন্য এদের হাতে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে দেয়া জরুরি। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে সঠিক ইতিহাস সংগ্রহের মাধ্যমে ইতিহাসবিকৃতি রোধের মাধ্যমে তা সম্ভব হতে পারে। দল কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে কল্যাণমুখী রাজনীতির চর্চা করতে হবে।

একটি রাষ্ট্রের জন্য স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছর দীর্ঘ সময়ই বলা যায়। এ সময়কালে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চ্যালেঞ্জ, অর্জন-বিসর্জনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে আসতে হয়েছে আজকের অবস্থানে। জাতীয় এজেন্ডা হিসেবে রাজনৈতিক বিষয়ই এখানে সর্বদা প্রাধান্য পেয়েছে, যেমন: একদলীয় বাকশাল পদ্ধতি, সামরিক শাসন, সামরিক- বেসামরিক মোর্চা, কু্য, পাল্টা-কু্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রত্যাবর্তন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি গ্রহণ ও বাতিল, সামরিক ছত্রছায়ায় ১/১১, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শাস্তি প্রদানের ধারা ইত্যাদি ঘটনা রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে এবং জাতি হিসেবে বাংলাদেশীদের প্রবলভাবে আচ্ছন্ন-বিভক্ত-আক্রান্ত করে রাখে।

রাজনীতির পাশাপাশি আবেগ, উচ্ছ্বাস, হিংসা ও জিঘাংসার বিষয়াবলিও রাষ্ট্র-মানুষ-সমাজকে ঘিরে রাখে। রাজনীতির নানা এজেন্ডার পুনঃপৌনিক ঘূর্ণনের চাপে জনমানুষের মৌলিক সুযোগ ও অধিকারের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রসমূহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও জাতীয় এজেন্ডায় স্থান পায়নি। রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক আবেগ ও এজেন্ডার সামনে অনেক সময়ই দাঁড়াতে পারেনি সর্বসাধারণের মৌলিক স্বার্থের প্রসঙ্গসমূহ।

মাঝে মাঝে অবশ্য সামাজিক সুরক্ষা জাল বা সোস্যাল সেফটি নেটের মাধ্যমে দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব, নারীর অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে ‘উপর-থেকে’ কিছু কাজ করা হয়েছে বটে। কিন্তু অন্তর্গত বৈষম্য ও সমস্যার শেকড় ধরে টান দেয়া সম্ভব হয়নি। সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহ যথার্থ মনোযোগ ও পরিচর্যা পায়নি। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ হয়নি। দলীয়করণ আর রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুণ্ঠন থামানো যায়নি।

স্বাধীনতার অর্জন যাতে কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত। মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু স্মৃতিচারণ নয়, জাতির জীবনে স্বাধীনতা অর্থবহ, তাৎপর্যময় করে তোলার পাশাপাশি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে শপথ গ্রহণের দিনও। স্বাধীনতা অর্জন যত কঠিন, স্বাধীনতা রক্ষা করা তার চেয়ে বেশি কঠিন। চলমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং আমাদের বাস্তবতায় এই বিষয়টি নানাভাবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাতির স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।

নতুন প্রজন্মের বোঝা উচিত যে, স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতা থেকে মুক্তি বা নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আয়োজন নয়। স্বাধীনতা হলো- স্বাধীন রাষ্ট্রে সার্বভৌম জাতি হিসেবে টিকে থাকার আয়োজন। স্বাধীনতা মানে ইচ্ছার স্বাধীনতা, রাজনীতির স্বাধীনতা এবং অবশ্যই অর্থনৈতিক মুক্তি। এই মুক্তির সংগ্রামে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে আমাদের তরুণ প্রজন্ম একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামীদের মতোই স্বপ্ন ও সাহস এগিয়ে আসুক, এটিই আমাদের প্রত্যাশা। স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন প্রযুক্তি, কৌশল, ঐক্য ও ন্যায়বোধ। এ ছাড়া স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে জ্ঞান, বুদ্ধি, শিক্ষা ও সৎ বিবেচনাকে কাজে লাগানো একান্ত অপরিহার্য।

যথেষ্ট সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ না হলে স্বাধীনতাকে রক্ষা করা যায় না। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য স্বাধীনতাকে মর্যাদা দিতে হয় এবং থাকতে হয় সদা সতর্ক। তাই স্বাধীনতার মর্ম উপলব্ধি করে একে রক্ষা করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য মনে করা উচিত। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের এই মৌল চেতনা সবাইকে অনুপ্রাণিত করুক এটাই মহান স্বাধীনতা দিবসে প্রত্যাশা।

====================================
লেখকঃ
প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম।
২৫/০৩/২০২০ইং

তথ্য সূত্রঃ স্বাধীনতা বিষয়ক বিভিন্ন দলিলপত্র, বই ও অনলাইন ওয়েবসাইট।

More articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest article

ভালুকার সিডষ্টোর বাজারে চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল খানের ব্যাপক গণসংযোগ

আরিফ রববানীঃআসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গণতন্ত্রেরমানসকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডকে তরান্নিত করে জনকল্যাণে জনগনের পাশে...

নগরীতে স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচীর উদ্ভোধন করলেন কাউন্সিলর আনার

লিয়াকত,রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহী মহানগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের জনসাধারনের মধ্যে উগ্রপস্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে,নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ড...

সাকিব এখন চাল-ডালের পাইকারি আড়তদার!

সাকিব এখন চাল-ডালের পাইকারি আড়তদার! মাস খানেক পরই আইসিসির নিষেধাজ্ঞামুক্ত হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। এরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারবেন...

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিশ্বনেতারা এই অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন ‘ভার্চুয়ালি’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতিসংঘে...

লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন লেবাননের মনোনীত প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আদিব।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে...