সোমবার , মার্চ ৩০ ২০২০
Breaking News
Home / অপরাধ / আমতলীতে থানার তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষে ঝুলান্ত লাশ উদ্ধার

আমতলীতে থানার তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষে ঝুলান্ত লাশ উদ্ধার

মো. মিরাজ খান, বরগুনা: বরগুনার আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামী শানু হাওলাদারেরর ঝুলান্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( তদন্ত) এর কক্ষ থেকে। পরিবারের অভিযোগ থানার ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির দাবীকৃত তিন লাখ টাকা না দেয়ায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ সুপার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬ টায় আমতলী থানা হাজতে।

জানাগেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামে গত বছর ৩ নভেম্বরে ইব্রাহিম নামের একজন কৃষককে হত্যা করে দুর্বৃত্ত্বরা । ওই হত্যা মামলায় শানু হাওলাদারের সৎ ভাই মিজানুর রহমান হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামী।

ওই মামলার শানু হাওলদারকে গত সোমবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে সহেন্দভাজন আসামী হিসেবে আমতলী থানা পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। তাকে ধরে নিয়ে আসার পর আমতলী থানা ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি আসামীর পরিবারের কাছে তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করে তার পরিবার। টাকা না পেয়ে আসামী শানু হাওলাদারকে থানা হাজতে রেখে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করে। নির্যাতন সইতে না পেয়ে আসামীর ছেলে সাকিব হোসেন মঙ্গলবার ওসি আবুল বাশারকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়।

কিন্তু তাতে তিনি তুষ্ট হয়নি। নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। বুধবার পরিবারের লোকজন এসে আসামী শানু হাওলাদারের সাথে দেখা করতে চাইলে পুলিশ দেখা করতে দেয়নি উল্টো পরিবারের লোকজনের সাথে অশ্লীল আচরন করে তাড়িয়ে দেয় এমন অভিযোগ নিহতের ছেলে সাকিব হোসেনের।

বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে আসামী শানু ওয়াস রুমে যাওয়ার কথা বললে পুলিশ তাকে ওয়াশ রুমে নিয়ে যায়। পরে এক ফাঁকে আসামী শানু হাওলাদার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির কক্ষে ফ্যানের সাথে রশি পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে এমন দাবী ওসির আবুল বাশারের। এ ঘটনা পুলিশ ধামাচাপা দেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। তারা নিহত স্বজনের পরিবার ও সংবাদ কর্মীদের থানার ভিতরে প্রবেশ করতে বাঁধা এবং থানা ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে নিহতের স্বজনরা থানা ফটকের সামনে আহাজারি করে। আধা ঘন্টা পরে পুলিশ ফটক খুলে দেয়। এ সময় থানার ভিতরে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। খবর পেয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন পিপিএম আমতলী থানা আসেন।

ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ তোফায়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনকরা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর) মোঃ মহব্বত আলী ও সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) সৈয়দ রবিউল ইসলাম। ওইদিন বেলা সাড়ে ১০ টায় বরগুনা জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান ও আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার্ শংকর প্রসাদ অধিকারী নিহত শানু হাওলাদারের সুরাতহাল করেন।

এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে তাৎক্ষনিক বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। নিহত শানু হাওলাদারের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরন করেছে পুলিশ।

নিহত শানু হাওলাদারের ছেলে সাকিব হোসেন বলেন, বিনা অপরাধে আমার বাবাকে ওসি ধরে এনে তিন লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেছে। আমি ওসির দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার বাবাকে নির্যাতন করেছে। বাবার নির্যাতন সইতে না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আমি ওসিকে ১০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু ১০ হাজার টাকায় ওসি তুষ্ট হয়নি। টাকার জন্য নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়ে বারবার আমার কাছে ঘুষের টাকা দাবী করেন।

তিনি আরো বলেন, বুধবার সকালে আমি বাবার সাথে দেখা করতে থানায় আসি কিন্তু আমাকে দেখা করতে না দিয়ে ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়। সারাদিনে আমাকে বাবার সাথে দেখা করতে দেয়নি। ওসি বলেন টাকা নিয়ে আস তারপর দেখা করতে দেব।

নিহত শানু হাওলাদারের শ্যালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, দুলাভাইকে ধরে আনার পর থেকে আমি থানায় প্রাঙ্গণে ছিলাম। পুলিশ তাকে টাকার জন্য বেধরক মারধর করেছে। তার ডাক চিৎকার শুনেছি। বহুবার চেষ্টা করেছি তার সাথে দেখা করতে কিন্তু পুলিশ দেয়া করতে দেয়নি। উল্টো আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে।নিহত শানু হাওলাদারের স্ত্রী মোসাঃ ঝড়না বেগম বলেন, পাঁচজন পুলিশ যাইয়্যা সোমবার রাইতে মোর স্বামীরে বাড়ী গোনে ধইর‌্যা আনছে। আনার সময় মোর কাছে টাকা চাইছে। মুই টাকা দেতে রাজি অই নাই হেইয়্যার লইগ্যা মোর স্বামীকে পুলিশে পিডাইয়্যা মাইয়্যা হালাইছে। মুই এইয়্যার বিচার চাই। থানার ভিতরে ঝড়না বেগম এই বিলাপ করে বারবার মুছার্ যাচ্ছিল।

গুলিশালালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, শানু হাওলাদারকে বাড়ী থেকে ধরে এনে নির্যাতন করেছে। আত্মহত্যার ঘটনা পুলিশের সাজানো। আমতলী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবী করছি আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে শানুকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার বিচার দাবী করছি।

আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার বলেন, আসামী শানু হাওলাদার বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬ টার দিকে ওয়াস রুমে যাওয়ার জন্য বলে। সে ওয়াস রুম থেকে ফিরে এসে এক ফাঁকে হাজত খানার ফ্যানের সাথে গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু হাজত খানায় কোন ফ্যান নেই সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পূর্বের কথা পাল্টে বলেন ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জনের কক্ষে ফ্যানের সাথে রশি পেঁচিয়ে আত্মত্যা করেছে। টাকা না দেয়ায় তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যা

About Mohammad Firoz

Check Also

র‌্যাব ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ০৫ দোকানে জরিমানা

নয়ন মৃধা, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীতে র‌্যাব-৮ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে পটুয়াখালী নিউমার্কেটে ০৫টি দোকানে ৭০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ
কাল মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে লকডাউনে নিম্নআয়ের মানুষজনের নাভিশ্বাস জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ৪ বার্তা করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে : প্রধানমন্ত্রী সৌদি মক্কা বায়তুল্লাহ-মদিনা নববীতে আজান ও নামাজের নতুন নিয়ম সৌদিতে করোনা ভাইরাসে একদিনে ৪-জনের মৃত্যু ও গত এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১২৯৯ জন সেনাবাহিনী মাঠে সহযোগিতায় জনতার কাউন্সিলর মানিক সৌদি আরবের জেদ্দায় করোনায় অসহায় কর্মহীন হওয়া প্রবাসীদের পাশে সাইদুল ইসলাম সুমন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট ইমাম নাচোলে করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা