শিমুল বিশ্বাসের প্রতি ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া বিক্ষুব্ধ বিএনপি’র নেতারা!

0

খাজা মেহেদী শিকদার: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত হাতিয়ার শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস খালেদা জিয়ার মুক্তির পর ফিরোজা’য় ঢুকতে পারেননি। শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে খালেদা জিয়ার দেখা না মেলার কারণে দলের মধ্যে বিশাল এক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

দলীয় বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাকালীন শিমুল বিশ্বাসের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।বরং শিমুল বিশ্বাস খালেদা জিয়ার নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক অপরাধ করে আসছেন।

অথচ বিশেষ সহকারী হিসেবে কদিন আগেও খালেদা জিয়ার ভাড়াবাসা ‘ফিরোজায়’ এবং গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দাপটের সঙ্গে বিভিন্ন কার্যক্রম করেছেন। এখন সেই শিমুল বিশ্বাসকে খালেদা জিয়া পছন্দ করছে না এমনটাই গুঞ্জন চারিদিকে।

দলীয় সূত্রমতে, ওয়ান ইলেভেনের পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার জিপের সামনের সিটে ‘হঠাৎ আবিষ্কার’ করেন শিমুল বিশ্বাসকে।

বাম ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা শিমুল বিশ্বাস কবে কখন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন— তা জানতেন না অনেকেই। তবে খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হওয়ার পর দলের ভিতরে নিজে শক্তি সঞ্চয় করেছেন জন্ম দিয়েছেন পলিটিকাল নিজস্ব গ্রুপের তবে এ গ্রুপ বিএনপি’র কোন কাজে আসেনি এমনটাই দাবি করেছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় অফিসের একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

সূত্রটি আরো জানান, বিশেষ সহকারীর শিমুল বিশ্বাস কিছুদিনের মধ্যেই খালেদা জিয়ার মন জয় করে সেই হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন। তার দাপুটে অবস্থানের কাছে বিএনপির বাঘা, বাঘা নেতারা অসহায় হয়ে পড়েছিলেন অথচ সেই শিমুল বিশ্বাসকে দু চোখে দেখতে পারেন না খালেদা জিয়া।

সূত্র মতে, দলের ভেতরে-বাইরে শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমা হতে থাকে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলেননি কোনোদিন।দলের নেতাকর্মীদের দাবি শিমুল বিশ্বাস খালেদা জিয়াকে মিসগাইড করেছেন যার কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংখ্যা পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার বেশকিছু ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের পেছনে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ইন্ধন রয়েছে। শিমুল বিশ্বাস নিজের ইচ্ছায় ভুলগুলি করেছেন। ২০১৩ সালের মার্চে ঢাকায় সফররত ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল, ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘চা’-এর দাওয়াত প্রত্যাখান, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা ও টানা ৯২ দিন গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান, ২৪ জানুয়ারি ছেলেহারা মা’ খালেদা জিয়াকে সান্ত্বনা দিতে গেলে প্রধানমন্ত্রীকে গুলশান কার্যালয়ের দরজা থেকে ফিরিয়ে দেওয়াসহ বেশকিছু ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্তের নেপথ্য নায়ক ছিলেন শিমুল বিশ্বাস— এমনটিই বক্তব্য বিএনপির অসংখ্য শীর্ষ নেতার। আজ দলটির শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়ার একশন দেখে শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব করছে না। তাদের দাবি ম্যাডামকে ভুল বুঝিয়ে শিমুল বিশ্বাস একটি রাজনৈতিক দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে। যার কারণে তার রেশ বিএনপিকে টানতে হচ্ছে।
জানা গেছে শিমুল বিশ্বাস বিএনপি’র সাবেক মন্ত্রী (মৃত) তরিকুল ইসলামকে একদিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি তাকে ২০_৩০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রেখেছিলো। এজন্য তরিকুল ইসলাম তার উপর খুব ক্ষুব্ধ হয়েছিল।

গুলশান অফিসের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তরিকুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণে খালেদা জিয়া নিজেই মিটিং থেকে বের হয়ে এসে শিমুল বিশ্বাসকে বলেছিল তরিকুল ভাই আসলে অনুমতি ছাড়াই তুমি আমার কাছে পাঠিয়ে দিবে। সেই দিনও খালেদা জিয়া কিছুটা উপলব্ধি করেছিল যে শিমুল বিশ্বাস মনে হয় তাকে মিসগাইড করছে।

দলীয় বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, শিমুল বিশ্বাসের প্রতি শুধু খালেদা জিয়াই ক্ষুব্ধ না তার কার্যক্রমের জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ।

অনেকেরই অভিযোগ- গুলশান কার্যালয় এবং বাসায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরও শিমুল বিশ্বাসের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হতো। তার সম্মতি ছাড়া খালেদা জিয়ার সঙ্গে কেউ দেখা করতে পারত না।

দলীয় বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন মাঝপথে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্তও শিমুল বিশ্বাসের কাছ থেকে আসে। সেদিন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বার বার চেষ্টা করেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। খালেদা জিয়ার বরাত দিয়ে শিমুল বিশ্বাস নিজেই ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দিন সরেজমিনে দেখা গেছে, সঙ্গত কারণেই ২৫ মাস ১৭ দিন পর সাময়িক কারামুক্তির সময় খালেদা জিয়ার সেই নিশান পেট্রোল গাড়ির সামনের সিটে শিমুল বিশ্বাসের থাকার কথা ছিল। কিন্তু ২৫ মার্চ বিকেল সাড়ে তিনটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে পৌঁছানো দলীয় পতাকাবাহী খালেদা জিয়ার সেই গাড়িটির সামনের সিট ফাঁকাই ছিল। এরপর থেকেই শিমুল বিশ্বাস সাংগঠনিক ও গনমাধ্যমের কাছে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছে।

অবশ্য খালেদা জিয়া নিজেও নিশান পেট্রোল জিপে ওঠেননি। অসুস্থ শরীরে উঁচু জিপে ওঠার বিড়ম্বনা এড়াতে টয়োটা ব্রান্ডের ছোট্ট একটি প্রাইভেট কারে চড়ে ফিরোজায় ফেরেন খালেদা জিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here