কালারমারছড়ায় অসহায় দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা দিলেন মরহুম জাফর আহমদের এর মেয়ে ফারহানা আহমেদ তামান্না

10

আবু বক্কর ছিদ্দিক, মহেশখালী : মানুষ মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণেই মানুষ। আবার মানুষ মরণশীল একথাও চির সত্য। কিন্তু কিছু মানুষের তার কাজের মাধ্যমে পৃথিবীতে অমর হন। হ্যাঁ বলছিলাম তেমন একজন মহান ব্যক্তির কথা যিনি ছিলেন হিংসা অহংকারের উর্ধ্বে। যিনি ধনী গরীবের মধ্যে কোন ভেদাভেদ করতেন না। যিনি ছিলেন সদা ন্যায় পরায়ন, চাল চলনে অতি সাধারন।

তিনিই হলেন মরহুম জাফর আহমেদ। মরহুম জাফর আহমেদ প্রতি বছর রমজান মাসে তার নিজ এলাকা মহেশখালীতে অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে চাল, ডাল ও চিনি সহ রমজানের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিতরণ করতেন। আবার কোরবানির সময়ও যারা টাকার অভাবে কোরবান করতে পারতেন না তাদের মাঝেও নিজ উদ্যোগে কোরবানির মাংস বিতরণ করতেন ।

সে সময় মহেশখালীতে ২০/২৫ টি গরু জবাই করে গরীবের মাঝে বিতরণের উদাহরণ আছে। এছাড়া গরীর অসহায় মানুষের জন্য তার দরজা সবসময় খোলা ছিল। এক কথায় তিনি ছিলেন গরীবের বন্ধু দানবীর । ২০০২ সালে ২ ডিসেম্বর মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ জনিত কারনে তার মৃত্যুতে মহেশখালী তথা পুরো কক্সবাজার জেলায় নেমে অাসে শোকের ছাঁয়া । সে সময় তার মৃত্যুতে হাজার হাজার নারী পুরুষের বুক ফাটা কান্নায় অাকাশ বাতাস ভারী হয়েছিল । একজন গরীব দরদী কে হারিয়ে বাঁক রুদ্ধ হয়েছিল এলাকার মানুষ। বাবার পথ অনুসরণ করে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সেই গরীবের দুঃখী মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তারই সু-যোগ্য কন্যা ফারহানা আহমেদ তামান্না। তামান্না লন্ডন প্রবাসী হয়েও ভুলে যাননি তার পিতার জন্ম স্থান মহেশখালীর মাটি ও মানুষকে ।

চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফারহানা অাহমেদ তামান্না গত ১৯ মে মঙ্গলবার বিকাল ৩টার সময় মহেশখালী উপজেলা কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা গ্রামে গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে নগদ প্রায় দুই লক্ষ টাকার অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। প্রতি বছরের ন্যায় অর্থ বিতরণে সার্বিক সহযোগিতা ও সুষ্ঠু বন্টনে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন মরহুম জাফর আহমেদ এর ভাতিজা বর্তমানে জার্মানীতে পিএইচডি অধ্যায়নরত মোহাম্মদ হোসেন বিধু । মানুষকে আর্থিক সহায়তা দানের ব্যাপারে ফারহানা অাহমেদ তামান্না বলেন , অামার পিতা যে ভাবে অসহায় মানুষের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করে গেছেন, আমিও একইভাবে এই মানুষগুলোর পাশে থাকতে চাই। তার সাহায্য সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

এদিকে এলাকার অসহায় নারী-পুরুষ দেশের এই দুর্যোগকালীন মুহুর্তে পবিত্র রমজান মাসে অর্থ সহায়তা পেয়ে আবেগ আপ্লুত। তাদের একজন বলেন, এই বিপদের সময় টাকা গুলো পেয়ে আমি অত্যন্ত অানন্দিত হয়েছি , অামরা অামাদের মেয়ে ফারহানা অাহমেদ এর জন্য মহান অাল্লাহর কাছে দোয়া করছি ।

১৯ মে মঙ্গলবার মহেশখালীর উত্তর নলবিলা মাঝেরপাড়া মরহুম জাফর অাহমেদ এর গ্রামের বাড়ীতে ফারহানা অাহমেদ তামান্নার পক্ষে তার অর্থ বিতরণ করেন মরহুম জাফর অাহমেদ এর ভাতিজা রবিউল হোছাইন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন মরহুম জাফর অাহমেদ এর ভাগিনা সংবাদকর্মী অাবু বক্কর ছিদ্দিক , রুহুল অামিন রুবেল ও ভাতিজি নাজমুন নাহারা কোহিনুর ।

উল্লেখ্য, মরহুম জাফর আহমেদ মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা গ্রামে ১২ এপ্রিল ১৯৫০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম এজাহার মিয়া এবং মায়ের নাম হোসনে আরা জামাল। জাফর আহমেদ ছাত্রজীবনে অসামান্য মেধার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬৬ ও ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক (পেকুয়া উচ্চ বিদ্যালয়) ও উচ্চমাধ্যমিক (চট্টগ্রাম কলেজ) পরীক্ষায় তিনি জাতীয় মেধা তালিকায় স্থান (স্ট্যান্ড) লাভ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ‘নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায়’ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং নেদারল্যান্ডে’র ইন্সটিটিউট অব সোস্যাল সায়েন্স (আইএসএস) থেকে ‘কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন’ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ইউনুছখালী নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। কিছু সময় তিনি দ্যা বাংলাদেশ অবজারভার এবং ঢাকা ডাইজেস্ট এ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বেসরকারী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘ব্র্যাক’ এর সাথে যুক্ত হন। তিনি দীর্ঘকাল ব্র্যাক এর ‘গবেষণা ও মূল্যায়ণ’ বিভাগে সিনিয়র গবেষক হিসেবে কাজ করেন।

১৯৯০ দশকের শুরুতে তিনি উপকূল ও ন্যাকব নামক দুটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। জাফর আহমেদ একজন সমাজ-অর্থনীতিবিদ হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন। গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি, স্যানিটেশন, পুষ্টি এবং শিক্ষা খাত বিষয়ে তার একাধিক প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত বই ও গবেষণা প্রতিবেদন রয়েছে। উন্নয়ন খাতের বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার লেখা প্রবন্ধ জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে নিয়মিত প্রকাশিত হত ।

২০০২ সালের ২ ডিসেম্বরে তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে ঢাকার নিজ বাসভবনে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মরদেহ তার গ্রামের বাড়ী কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলায় সমাহিত করা হয়। মৃত্যুকালে তার স্ত্রী এবং ফারজানা আহমেদ মুনমুন ও ফারহানা আহমেদ তামান্না নামে তার দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here