ময়মনসিংহে সদরে গ্রাম্য সালিশ অমান্য করে মিথ্যা মামলায় রিদয় নামক একজন গ্রেফতারে তোলপার

7

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য সালিশ অমান্য করে দাবীকৃত চাঁদা না পাওয়ায় মিথ্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরীহ ব্যক্তিদের মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত মামলায় রিদয় নামের এক নিরীহ ছেলেকে ফাঁসানোর ফলে সম্প্রতি সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে বলেও জানা গেছে। জেলার সদর উপজেলার ১২ নম্বর ইউনিয়নের ভাবখালী কাচারি বাজার এলাকায় উক্ত ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিরীহ এই ছেলেকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যদের অপমান করা হয়েছে বলেও মন্তব্য চলছে এলাকা জুড়ে।

অভিযোগে জানা গেছে- ভাবখালী কাচারী বাজার এলাকায়- ভাবখালী কাচারী বাজার এলাকার মৃত ইউছুফ আলীর পুত্র আঃ বারেক তার বাড়ীতে নিত্যদিন মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। বারেকের এসকল কর্মকান্ডে স্থানীয় উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় পাশ্ববর্তী বাড়ীর আঃ খালেকের স্ত্রী (লিটনের মা) প্রতিবাদ করলে তাদের মাঝে কথা কাটা-কাটি হলে এক পর্যায়ে দুপক্ষের মাঝে মারামারি সৃষ্টি হয়। পরে এই ঘটনাকে আড়াল করে বারেক তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে দিয়ে লিটনের ছেলের সাথে বদনাম রটনা করে কোতুয়ালী থানায় লিটনের ছেলে ও পরিবারকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমোলক অভিযোগ দায়ের করলে কোতুয়ালী পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করতে স্থানীয় সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রমজান আলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিলে অবশেষে গত ৮ই মে শুক্রবার বিকালে স্থানীয় মুরুব্বি আব্দুল মোতালেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দরবার শালিসে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) রমজান আলী, ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধ গাজী রজব আলী ফকির,হাজ্বী আব্দুল মোতালেব,সুলতান মন্ডল,ফজুলল হক, আব্দুস সালাম,নাজির উদ্দীন,ইউনুছ আলী,আবুল হাসিম,আলিম মেম্বার,খোকন মেম্বার,আব্দুল মালেক,এমদাদুল হক,শরিফুল ইসলাম ইসলাম কন্টাকটর,রফিকুল ইসলাম,বাবুল মিয়াসহ গন্যমান্যরা উভয়পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করে। উক্ত গন্যমান্যরা দুপক্ষের বিবাদ মিমাংসায় উন্নীত হলেও লিটনের অভিযোগ স্থানীয় কতিপয় দুষ্কৃতিকারী ও মাদকসেবী কুচক্রী মহল নিরবে তার নিকট মোটা অংকের চাঁদা দাবী করলে লিটন চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে বারেককে ফুসলিয়ে দায়েরকৃত মিথ্যা অভিযোগটির ভিত্তিতে মামলা দায়ের করতে উৎসাহিত করে। বারেক দুষ্কৃতকারীদের উস্কানিতে স্থানীয় গণ্যমান্যদের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মিমাংসাকৃত ঘটনা নিয়ে লিটনের পরিবারের সদস্যদের নামে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার হয় লিটনের ছেলে রিদয়।

বারেক তার মামলায় অভিযোগ করেছে লিটনের ছেলে রিদয় তার মেয়েকে স্কুলে যাতায়াতের সময় উত্তপ্ত করে যা ইভটিজিং বলে সকলে অবগত। অথচ করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। স্থানীয়দের প্রশ্ন যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ সেখানে লিটনের ছেলে বারেকের মেয়েকে কিভাবে ইভটিজিং করতে পারে? এই নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র সমালোচনার দেখা দিয়েছে। বেড়িয়ে এসেছে আরো তথ্য। তথ্য মোতাবেক জানা গেছে-মামলাবাজ বারেক তার মেয়েকে দিয়ে পাশ্ববর্তী কালির বাজার এলাকার জনৈক সুজন নামের আরেক ছেলেকে মিথ্যা ষড়যন্ত্রে ফাসিয়ে জরিমানা আদায় করেছে,তাছাড়া তার নিজের ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জরিমানা আদায় আরো অনেকের ষড়যন্ত্রে ফেঁসে জরিমানা দিতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়- এভাবেই বারেক তার মেয়ে দিয়ে ছেলেদের ফাঁসিয়ে জরিমানা আদায় করে আর আদায়কৃত জরিমানার টাকা থেকে ভাগ বাঁটোয়ারা পায় স্থানীয় একশ্রেণির দুষ্কৃতকারী কুচক্রী মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here