প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট দূরীকরণ এবং বেকারত্ব রোধের একমাত্র উপায় প্যানেল শিক্ষক নিয়োগ-প্রচার সম্পাদক

300

রেজাউল আলম সরকার। নীলফামারী প্রতিনিধি:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট দূরীকরণ ও দেশের বেকারত্ব হ্রাসে প্যানেল গঠন করে শিক্ষক নিয়োগের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন নীলফামারী জেলার প্যানেল প্রত্যাশী শিক্ষক সংগঠনের প্রচার সম্পাদক হাচানুর রহমান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্যানেল গঠনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে মানববন্ধন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এ স্বারকলিপি প্রদান সহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, প্যানেল প্রত্যাশী শিক্ষক ও শিক্ষিকা বৃন্দ। আরও নতুন কিছু কর্মসূচি থাকলেও মহামারি নোবেল করোনা ভাইরাসের কারণে থেমে আছে সব।

২০১৮ সালের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ২৪ লক্ষ পরীক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করে ৫৫২৯৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয় যা মোট পরীক্ষার্থীর শতকরা ২.৩%। এদের মধ্যে ১৮১৪৭ জন চুড়ান্ত নিয়োগ পেলেও বাকি থাকে ৩৭১৪৮ জন।যেহেতু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রচুর পরিমাণ শূন্য পদ রয়েছে এবং ২০১৮ এর সার্কুলারটি ছিলো শূন্য পদের… তাই শিক্ষক সংকট দুর এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে সেই শূন্য পদে প্যানেল গঠন করে ৩৭০০০ হাজারকে নিয়োগের দাবি করে প্যানেল প্রত্যাশী শিক্ষক-শিক্ষিকা বৃন্দ।

নীলফামারী জেলার প্যানেল প্রত্যাশী শিক্ষক সংগঠনের প্রচার সম্পাদক বলেন, প্রাথমিকে বর্তমানে প্রায় ৪০০০০+ হাজার শূন্য পদ, ৬৮ হাজার রিজার্ভ পদ এবং প্রায় ২৬ হাজার প্রাক-প্রাথমিক পদ রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারনে প্রাথমিক শিক্ষা খাত প্রায় ধ্বংসের পথে এবং সার্কুলার দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে গেলে ২-৩ বছর সময় লাগে যা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, তাই প্রাইমারিতে প্যানেল গঠন করে দ্রুত ৩৭০০০ হাজার কোয়ালিটি সম্পন্ন কে নিয়োগ দেওয়া দরকার।
বিবিসির জরিপে দেখা যায় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৬৫% শিশু রিডিং পড়তে পারেনা। এর মুল কারন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রচুর পরিমাণ শিক্ষক সংকট।
বাংলাদেশ প্রাইমারি এডুকেশন অ্যানুয়াল সেক্টর পারফর্মেন্স রিপোর্ট ২০১৯ এর তথ্য মতে ১ জন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয় ৭৪৯ টি বিদ্যালয়,২ জন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয় ১১২৪ টি বিদ্যালয় এবং ৩ জন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয় ৪০০৮ টি বিদ্যালয়।
১৬ জুন ২০১৬ দৈনিক শিক্ষার নিজস্ব প্রতিবেদন অনুযায়ী ডি পি ই এর তথ্য মতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ শিক্ষক অবসরে যায়…. কিন্তু প্রতিদিন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রচুর শিক্ষক সংকট রয়েছে.. তাই প্যানেলের মাধ্যমে ৩৭০০০ হাজার মেধাবীকে নিয়োগ দেওয়া খুবই জরুরী বলে দাবি করেন এসব প্যানেল প্রত্যাশী ছাত্র-ছাত্রীরা.

এছাড়া তারা দাবি করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্বাচনী ইশ্তেহার ছিলো মুজিব বর্ষে প্রতি ঘরে ঘরে একজনকে সরকারী চাকরি দেওয়া, যেহেতু ৩৭০০০ হাজার প্যানেল প্রত্যাশী ৬১ টি জেলার প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের তাই এই ৩৭০০০ হাজারকে প্রাথমিকে প্যানেল গঠন করে নিয়োগ দেওয়া হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অঙ্গিকার পূরণ হবে সেই সাথে প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট দুর হবে এবং ৩৭০০০ হাজার মেধাবী নতুন জীবন ফিরে পাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মূল ভিত্তি সেই ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য জাতির পিতা ১৯৭৩ সালে প্রায় ৩৭০০০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করন করেন যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজারের অধিক শিক্ষক নিয়োগ পায় তারই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে প্রায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করন করেন সেখানেও প্রায় ১ লক্ষ ২ হাজার শিক্ষকের কর্মসংস্থান হয়।
তারই ধারাবাহিকতায়য় জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী (মুজিব বর্ষ) কে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ৩৭০০০ হাজার কোয়ালিটি সম্পন্ন প্যানেল প্রত্যাশী কে নিয়োগ দেওয়া হোক।
ইতিমধ্যে প্যানেল গঠন করে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে, সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, প্যানেল গঠন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সহজ পদ্ধতি এবং প্যানেলের বিপক্ষে কোনো আইনি জটিলতা নেই তিনি আরো বলেছেন পরবর্তী সার্কুলারের আগ পর্যন্ত যতগুলো শূন্য পোস্ট সেই শূন্য পোস্টে প্যানেল গঠন করে পূরণ করা দরকার।
এ ছাড়াও স্বাধিনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম সাজু বলেন প্যানেলের অনেক যৌক্তিকতা আছে এবং যেহেতু প্রাথমিকে অনেক শূন্য পদ রয়েছে সেই শূন্য পদে ৩৭০০০ হাজারকে প্যানেল গঠন করে নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি আরো বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এর সুষ্ঠু সমাধান হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সভাপতি স্যার সিদ্দিকুর রহমান ও প্যানেলে শিক্ষক নিয়োগের জোর দাবি জানান।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি বজলুল রহমান বলেন প্রাইমারিতে ২৪ লক্ষ পরীক্ষার্থীর কথা শুনলে গা শিউরে ওঠে তিনিও প্যানেল গঠন করে ৩৭০০০ হাজার মেধাবীকে নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জানান।

মুজিব বর্ষের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে এবং জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়তে ৩৭০০০ হাজার কোয়ালিটি সম্পন্ন কে প্যানেল গঠন করে নিয়োগ দিলে একদিকে যেমন ৩৭০০০ হাজার মেধাবীর বেকারত্ব রোধ হবে, ৩৭০০০ হাজার পরিবারের মুখে ফুটবে হাসি এবং ৭৪০০০ হাজার বাবা-মা সন্তানকে পড়ালেখা শেখানোর স্বার্থকতা খুজে পাবে বলে প্যানেল প্রত্যাশীরা মনে করেন। এজন্য তারা জাতির পিতার সূ-যোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here