নোটিশের ভাষা নিয়ে গবির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

4


নাজমূল হাসান,গবি প্রতিনিধি:যথাসময়ে বকেয়া টাকা পরিশোধ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অন্যথায় নিজের জীবন নিজেই ধ্বংস করবেন এবং এজন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।’ এটা কোনো আলোচনা সভায় কারো মৌখিক বক্তব্য নয়। সেমিষ্টার ফি চেয়ে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) প্রশাসনের প্যাডে দেয়া লিখিত বিজ্ঞপ্তির ভাষা।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই সমালোচনার ঝড় বইছে। ক্যাম্পাসের বর্তমান শিক্ষার্থীরা চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নোটিশকে অমানবিক অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে নোটিশের ভাষা প্রয়োগ দেখে সাবেক শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে নিন্দার ঝড় তুলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল কাউসার ফেসবুকে লিখেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় কি এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে? অবিলম্বে এমন শব্দের প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
চলমান সময়ে এই ধরণের নোটিশকে কান্ড জ্ঞানহীন উল্লেখ করে আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ মাহাদী হাসান লিখেছেন, ‘যেভাবে নোটিশ দিয়েছে, মনে হয় কর্তৃপক্ষ ভিনগ্রহে বসবাস করছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাহারা অবগত নয়! অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভুলবশত কতৃপক্ষের টাকা চলে গিয়েছে! সেটাই তাঁরা ফেরত চাচ্ছে!’
নোটিশকে ব্যঙ্গ করে মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হোসেন লিখেছেন, ‘টাকা ধ্যান, টাকা জ্ঞান, টাকা চিন্তা মণি। টাকা ছাড়া গণ যেন….ভাইদের খনি!’
মো. মকিম মন্ডল নামের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী তো টকশোতে এসে বড় বড় কথা বলেন! তার নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের কি খবর তিনি রাখেন না? নাকি দেখেন না?
আরও অনেকেই এটাকে মাস্তানি নোটিশ বলে অভিহিত করেছেন। আক্ষেপের সুরে কিছু শিক্ষার্থী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল অর্জনগুলোকে বিলীন করতে এমন পদক্ষেপই যথেষ্ট। আবার অনেকেই আক্রমণাত্বক ভাষায় নোটিশ প্রদানকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
জানা যায়, চলমান পরিস্থিতিতে আর্থিক সঙ্কটে পড়ায় উৎকন্ঠিত শিক্ষার্থীদের ছাত্র সংসদের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য কিছু ছাত্র প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন। এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেমিষ্টার ফি ছাড়া বা বকেয়া রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি সম্বলিত চটকদার কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাস কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ জাতীয় প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে যাবতীয় বকেয়া পরিশোধ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
নোটিশের এসব দিকে আলোকপাত করে আইন বিভাগের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ আল আজাদ লিখেছেন, ‘ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যৌক্তিক দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আপনারা তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সমাধানের পথে হাঁটতে পারতেন। কিন্তু সেটা আপনারা করেন নি। এখন তাদের স্ট্যাটাসকে পুঁজি করে এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনেকটা চাপিয়ে দিয়ে ফি আদায় কাম্য হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন নয়া কানুন করা উচিত কখন স্ট্যাটাস দেওয়া যাবে/যাবে না? নাম মাত্র সংসদ রেখে কোন লাভ নাই। তাদেরকে কাজের স্বাধীনতা দিতে হবে। এখন প্রশ্ন উঠে আপনারাই (প্রশাসন) যদি সব বলেন তাহলে প্রতিনিধিদের কথা শুনবে কে? আর তাদের কাজটায় বা কি?’
সার্বিক বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে আজাদ আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী একটি প্রতিষ্ঠান করোনা যুদ্ধের এই সময়ে যদি শিক্ষার্থীদের পাশে না দাঁড়াতে পারেন, তাহলে আর কবে দাঁড়াবেন। আপনারা চাইলে টিউশন ফি মওকুফ করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতেন। এত দিনে যা বুঝেছি আপনারা নিজেরাই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে চান না। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক আপনাদের, এগিয়ে যাক আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here