মানবতার আরেক নাম মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ

9

ভরত রায় প্রত্যয়,
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
সময়টা ছিলো বৃহস্পতিবার (৯ই জুলাই) দুপুর ২ টা। নামাজ শেষ করেই খেতে চিরিরবন্দর আমবাড়ির একটি ভাতের হোটেলে খেতে বসছিলেন “দৈনিক আমাদের সময়” পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ। নিজের খাওয়া শেষ করে বের হতে না হতেই হোটেলের সামনে চোখে পরে খাবারের জন্য কাতরাচ্ছে এক ভিক্ষুক। তা দেখে সেখানে দারিয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে সেই ভিক্ষুকের দিকে। একদিকে ভিক্ষুকটি খাবারের জন্য কাতরাচ্ছে আর অন্যদিকে ছলছল নয়নে তাকিয়ে ছিলো সাংবাদিক আসাদ।

এরপর সেখান থেকে ফিরতে পারলেন না সাংবাদিক আসাদ। অসহায় সেই ভিক্ষুকের খাবারের ব্যবস্থা করলেন তিনি। মাংস সহ এক প্লেট ভাত নিয়ে এসে খেতে দেন তাকে। খাওয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় পাশেই বসে পরেন তিনিও। শেষ পর্যন্ত ৬ প্লেট ভাত খান অসহায় ভিক্ষুকটি। আর ঠিক ততোক্ষন দুচোখ ভরে খাওয়া দেখছিলেন সাংবাদিক আসাদ। তবে একবার ভাবলেই বোঝা যায় কেউ ৬ প্লেট ভাত কখন খায়। একজন কতোটা ক্ষুদার্ত ব্যক্তি ৬ প্লেট ভাত খেতে পারে।

এবার সেই সাংবাদিক আসাদের কার্যক্রম দেখে তার পিছু নেয় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী। পরেরদিন শুক্রবার (১০ই জুলাই) চিরিরবন্দর ফায়ার সার্ভিস ও পেট্রোল পাম্পের মাঝমাঝি এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়। যেই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন একজন এবং গুরতর আহত ছিলো আরও তিনজন। খবর পেয়েই ছুটে যায় গণমাধ্যম কর্মীরা। সেখানে গিয়েও দেখা হয় সাংবাদিক আসাদের। আর সেখানেও চোখে পরে তিনি তার “পাশে দাঁড়াও” কর্মীদের নিয়ে তাদের নিজস্ব এম্বুলেন্স সার্ভিসে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। যেখানে আহত ব্যক্তিরা ছিলেন তার কাছে অজ্ঞাত।

এছাড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় গোটা বিশ্ব এখন দিশেহারা। ভাইরাস সংক্রমণরোধে সর্বত্র চলছে লকডাউন, দোকানপাট বন্ধ। কর্মহীন হয়ে পড়ায় নানাবিধ সংকট বাড়ছে। নিম্নবিত্ত তো বটেই মধ্যবিত্তরাও সংকটে পরেছেন। কারো কাছে হাত পাততেও পারছেন না অনেকে। এই পরিস্থিতিতে মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে দিনরাত চিরিরবন্দর উপজেলার এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত ছুঁটে চলেছেন সাংবাদিক আসাদ।

করোনা পরিস্থিতির শুরুতেই উপজেলার অসহায় কর্মহীন মানুষদের পাঁশে দাঁড়ানোর জন্য ১২টি ইউনিয়নের একঝাঁক তরুনদের নিয়ে গঠন করেছেন “পাশে দাঁড়াও” নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটির আহব্বায়ক মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ তরুন স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে বিরামবিহীন ভাবে ছুঁটছেন।

তিনি খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় কর্মহীন মানুষদের কথা চিন্তা করে ২টি ফ্রী এম্বুলেন্স সার্ভিস, মোবাইল ফোনে ঘরে বসে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা পরামর্শ, মুমুর্ষ রোগীদের জন্য জরুরী রক্ত সংগ্রহ ও মটরসাইকেল যোগে ব্লাড ডোনারদের হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছে দেয়া ও ব্লাড দেয়ার পর নিরাপদে বাড়ী পৌছে দিতে ফ্রী যাতায়াত নিশ্চিত করা, তৃনমুল পর্যায়ের অসহায় মানুষদের খোঁজ খবর নিয়ে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেয়া, রেলওয়ে ষ্টেশনে থাকা ভাঁসমান মানুষকে সেহেরী নিজ হাতে পরিবেশন করে খাওয়ানো সহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে গেছেন।

উপজেলা জুরে ইতোমধ্যে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক মাহাফুজুল ইসলাম। তিনি ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় বন্যাদুর্গত অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাড়িয়েছিলেন তা এখনো এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আছে। প্রতি বছর শীতে অসহায় শীতার্ত মানুষদের পাশে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

সাংবাদিক মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ এর পরিচিতি- তিনি পেশায় সাংবাদিক ও কবি।
মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ, জাতীয় “দৈনিক আমাদের সময়” পত্রিকার চিরিরবন্দর উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে আসছেন, চিরিরবন্দর অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক, তিনি চিরিরবন্দর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের একজন দলিল লেখক লাইসেন্স নং-৯৯, চিরিরবন্দর সাব- রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে আসাদ স্টোর এন্ড ট্রাভেল, আসাদ কম্পিউটার এন্ড ফটোকপি নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাঁর। তিনি মাঝে মধ্যেই অসাধারণ কবিতা উপহার দেন আমাদেরকে। গত একুশে বই মেলায় চিরিরবন্দরের সন্তান উদীয়মান কবি রাজিউর রাকিবের যৌথ সম্পাদনায় “স্বপ্ন নীড়” বইটিতে মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ এর কবিতা প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরদিন থেকেই মূলত তিনি কাজ শুরু করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের খোঁজে। গরীব ও অসহায় মানুষের ঘরে খাদ্যসামগ্রী সহ বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দিতে।

যেখানেই দুর্দশাগ্রস্থ মানুষ দেখেছেন সেখানেই বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। তাঁর এই তৎপরতা সহজেই সকলের নজর কাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসায় ভাসতে থাকেন মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ । অনেকেই তাঁকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি দিন রাত ২৪ ঘন্টায় সংগঠনের ১২ টি ইউনিয়নদের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য মোতাবেক নিজেই মোটরসাইকেল নিয়ে অসহায় পরিবারের খোজ খবর নিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছায়ে দিচ্ছেন কখনো এ্যাম্বুলেন্সে, কখনো ছুটে চলেছেন হাসপাতালে, সড়ক দুর্ঘটনা সহ বিভিন্ন রোগীদের নিয়ে ভর্তি করে ঔঁষধের পর্যন্ত ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। রোগী আনতে গিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে বসেই ইফতার করতে দেখেছেন চিরিরবন্দরের মানুষ। তিনি একজন সাংবাদিক নন একজন মানবতার ফেঁরিওয়ালাও বটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here